বিজ্ঞপ্তি   

কোরবানীর পশুর চামড়া ছাড়ানোর নিয়মাবলী
... বিস্তারিত
শুরু » মৎস্য হ্যাচারি আইন, ২০১০
মৎস্য হ্যাচারি আইন, ২০১০

মৎস্য হ্যাচারি আইন, ২০১০

মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব, এ সম্পদের বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা, প্রাপ্যতা এবং যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার মৎস্য হ্যাচারি আইন,২০১০ প্রণয়ন করেছেন। এ আইনের সংক্ষিপ্ত সার নিম্নে দেয়া হলোঃ

আইনের প্রাধান্য

আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ কিছু থাকলে, এ আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাবে।

হ্যাচারি নিবন্ধন, ইত্যাদি

এ আইনের অধীন হ্যাচারি নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের অধীন সকল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিবন্ধন কর্মকর্তা হবেন।

এ আইন কার্যকর হবার পর হ্যাচারি স্থাপনকারীগণ বা পরিচালনাকারীগণকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্বতিতে, ফরমে এবং ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নিবন্ধন কর্মকর্তার নিকট হ্যাচারি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।

নিবন্ধনের তারিখ হতে পরবর্তী এক বৎসর পূর্ণ হওয়ার নূন্যতম ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে বাৎসরিক ভিত্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে হ্যাচারি নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে এবং অনূরূপ প্রতি বৎসর নবায়ন করতে হবে।

সংকরায়নে বিধি নিষেধ

(1) সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মৎস্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি মাছের সংকরায়ন করতে পারবে না।

(2) মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন ব্যতীত উপ-ধারা () এ উল্লিখিত উদ্ভাবিত সংকরায়ন জাতের মাছ উৎপাদন বা চাষের জন্য অবমুক্ত করা যাবে না।

অন্তঃপ্রজনন নিষিদ্ধকরণ

কোন হ্যাচারিতে প্রণোদিত বা কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে অন্তঃপ্রজনন করা যাবে না।

এ আইন কার্যকর হবার তারিখ হতে মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি বিদেশ হতে কোন জীবিত মৎস্য, রেণু, পোনা বা পি-এল আমদানী করতে পারবে না।

পোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ

মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতীত কোন হ্যাচারিতে নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত অনুমোদিত পোনা ব্যতীত অন্য কোন পোনা উৎপাদন করা যাবে না।

হ্যাচারি নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন, প্রজাতি সংরক্ষণ ও মৎস্য উন্নয়ন

(1) এ আইনের বিধানাবলী যথাযথভাবে পালিত হয়েছে বা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তদ্কর্তৃক সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হলে, যে কোন সময়ে যে কোন মৎস্য হ্যাচারি ও উহার প্রাঙ্গন পরিদর্শন করতে পারবেন এবং উপকরণাদি ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি যাচাই, প্রজননক্ষম মৎস্য, রেণু, পোনা ও পি-এল, যন্ত্রপাতি, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এতদ্সংক্রান্ত যে কোন লিখিত নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

(2) উপ-ধারা () এর অধীন পরিদর্শনকালে, মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ পালন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(3) মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হ্যাচারি নিয়ন্ত্রণ, প্রজাতি সংরক্ষণ, মৎস্য উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হবেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্যে হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদনে হ্যাচারি মালিকগণকে সাহায্য ও সহযোগীতা করবেন।

অনুমোদিত দ্রব্য জব্দ ও বাজেয়াপ্তকরণ

(1) কোন হ্যাচারিতে বিধি দ্বারা অনুমোদিত দ্রব্য বা দ্রব্যাদি ব্যতিরেকে অন্য কোন দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না।

(2) কোন ব্যক্তি বিধি দ্বারা অনুমোদিত দ্রব্য ব্যতিরেকে অন্য কোন দ্রব্য ব্যবহার করলে উহা বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে।

(3) মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি এ মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উপ-ধারা () এর অধীন কোন দ্রব্য বা দ্রব্যাদি বাজেয়াপ্তযোগ্য, তা হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত দ্রব্য বা দ্রব্যাদি জব্দ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ প্রদানপূর্বক বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ দিতে পারবেন অথবা উহা সংশ্লিষ্ট হ্যাচারিতে বা নিজস্ব এখতিয়ারে জিম্মায় রাখতে পারবেন।

(4) মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, এ ধারার অধীন, বাজেয়াপ্তকৃত দ্রব্য বা দ্রব্যাদি ধক্ষংস করা প্রয়োজন তা হলে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হবার পর কর্তৃপক্ষ উহা ধক্ষংস বা ক্ষেত্রমত, নিলামে বিক্রয় করতে পারবেন।

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষণ

(1) মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে পরীক্ষার জন্য হ্যাচারির প্রজননক্ষম মৎস্য, মাছের আঁইশ, চিংড়ির খোলস, রেণু, পি-এল, পোনা, মৎস্য দেহের যে কোন অংশ, মৎস্য খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন।

(2) হ্যাচারিতে ব্যবহৃত সকল প্রকার দ্রব্যের পরিচিতি এবং উহা সংগ্রহের উৎস প্রকাশ করতে হ্যাচারির মালিক বা হ্যাচারি পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ বাধ্য থাকবেন।

মহাপরিচালকের ক্ষমতা অর্পণ

মহাপরিচালক এ আইনের অধীন তাঁর যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে, লিখিত আদেশ দ্বারা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তদূধর্ক্ষ কোন কর্মকর্তাকে অর্পনণ করতে পারবেন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ

এ আইনের অধীন যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোন সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবার জন্য অনুরোধকরতে পারবেন এবং এরূপ অনুরোধ করা হলে উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সহায়তা প্রদান করবে।

নিবন্ধন বাতিলকরণ

কোন হ্যাচারির মালিক বা হ্যাচারি পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি কর্তৃক নিবন্ধনের কোন শর্ত ভঙ্গ করলে বা এ আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত হলে, নিবন্ধন কর্মকর্তা তাঁকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান করে উক্ত হ্যাচারির নিবন্ধন লিখিত আদেশ দ্বারা বাতিল করতে পারবেন।

নিবন্ধন স্থগিতকরণ

নিবন্ধন কর্মকর্তার নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক নিবন্ধনের কোন শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না বা উহার শর্তাবলী লংঘন করা হচ্ছে বা এ আইনের কোন ধারা বা তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তা হলে নিবন্ধন কর্মকর্তা, লিখিত আদেশ দ্বারা, এ আইনের অধীন অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে, উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারবেন।

প্রশাসনিক আদেশের বিরুদ্ধে আপীল, ইত্যাদি

(1) এ আইন বা বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হলে তিনি, উক্ত আদেশ বা নির্দেশ প্রদানের তারিখ হতে ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের মধ্যে সরকার কর্তৃক গঠিত আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারবেন এবং আপীলের উপর উক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।

(2) উপ-ধারা () এ বর্ণিত আপীল আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকার কর্তৃক অনধিক ৩ (তিন) জন ব্যক্তির সমন্বয়ে আপীল কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে এবং উহাদের মধ্য হতে একজন উক্ত কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হবেন।

(3) এ ধারার অধীন আপীল আবেদন দাখিলের তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করতে হবে।

দন্ড

(1) কোন ব্যক্তি এ আইনের ধারা ৫,,৭ এবং ৯ এর বিধান লংঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং অনুরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনুধর্ক্ষ ১ (এক) বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা নুন্যতম ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা হতে সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

(2) নিবন্ধনকৃত হ্যাচারির মালিক বা হ্যাচারি পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ আইনের ধারা ৫,,৭ ও ৯ ব্যতীত অন্য কোন ধারা বা এ আইনের অধীন প্রণীত বিধি লংঘন করলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা হতে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা আর্থিক জরিমানা করতে পারবেন।

কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

এ আইনের অধীন হ্যাচারি স্থাপনকারী বা পরিচালনাকারী নিগমিত (Incorporated) হলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, পরিচালক বা কোন কর্মকর্তা যার জ্ঞাতসারে এবং অংশগ্রহণে এ আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হয়, তিনি উক্ত অপরাধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন।

অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ

ফৌজদারী কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, নিবন্ধন কর্মকর্তা, মহাপরিচালক বা তদ্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত কোন কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোন আদালত এ আইনের অধীন কোন মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করবে না।

অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable) ও জামিনযোগ্য (Bailable) হবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন,২০১০

মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব, এ সম্পদের বর্তমান ও ভবিষ্যত চাহিদা প্রাপ্যতা এবং যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নযনের বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন,২০১০ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের সংক্ষিপ্ত সার নিম্নে দেয়া হলোঃ

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তকর্তা মৎস্যখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হবেন।

লাইসেন্স ব্যতীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন

প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত

এ আইন কার্যকর হবার পর কোন ব্যক্তি ধারা ৬ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানী, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করতে পারবেন না।

লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ

এ আইনের অধীন মৎস্যখাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা মহাপরিচালক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হবেন।

লাইসেন্স প্রদান

এ আইনের অধীন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি, রপ্তানী, বিপণন, বিক্রয়, বিতরণ এবং আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য ধারা ৫ এ উল্লিখিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে এ ফরমে আবেদন করতে পারবেন।

লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন

এ আইনের অধীনে প্রদত্ত লাইসেন্সের মেয়াদ হবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হতে (এক) বৎসর।

লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি

(1) এ আইনের অধীন প্রদেয় লাইসেন্সের ফি ও নবায়ন ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের দ্বারা, লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি এর হার ধার্য করতে পারবে।

(2) কোন লাইসেন্স গ্রহীতা এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা লাইসেন্স এর কোন শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স গ্রহীতাকে যুক্তিসংগত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করে প্রদত্ত লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।

আদর্শমাত্রা

(1) সরকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদিতব্য মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য এর গুণগতমান বজায় রাখবার লক্ষ্যে বিধি দ্বারা মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের আদর্শমাত্রা নির্ধারণ করবে এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকালে উক্ত আদর্শমাত্রা অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।

(2) মাননিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতেও পরীক্ষায় কোন মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য উপধারা () এ উল্লিখিত আদর্শ মাত্রা না পাওয়া গেলে বা পুষ্টি বিরোধী কোনো উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণিত হলে বা উহাতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে অযোগ্য বা ক্ষতিকর কোনো দ্রব্যের মিশ্রন পাওয়া গেলে উক্ত মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ

(1) আমদানিকৃত ও দেশে উৎপাদিত যে কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করবার যে কোন পর্যায়ে উহার মান যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন উৎপাদক, আমদানিকারক বা বিক্রেতার নিকট হতে নমুনা সংগ্রহ করে উহা মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করাতে পারবে।

(2) উপ-ধারা () এর অধীন পরীক্ষায় মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহারের অনুপযোগী প্রমাণিত হলে উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং উহার আমদানিকারক, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী এ আইনে অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

ক্ষতিকর ও ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, আমদানি রপ্তানী, বিক্রয়, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ

কোনো ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অথবা উহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানীর মাধ্যমে এরূপ কোনো মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি, রপ্তানী, বিক্রয়, বিতরণ বা পরিবহন করতে পারবে নাঃ

() যাতে মানুষ, পশু, মৎস্য বা পরিবেশের জন্য কোনো বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ থাকে; এবং

() যা আদর্শমাত্রার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

পাত্র ও লেভেলিং

কোন মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজারজাত করা যাবে না, যদি,

() উক্ত খাদ্য অনুমোদিত পাত্র বা প্যাকেটে সংরক্ষিত এবং বায়ুনিরোধ অবস্থায় মোড়কজাত না হয়; এবং

() উক্ত পাত্র বা প্যাকেটে নি¤œবর্ণিত বিষয়গুলি উল্লেখ না থাকে, যথাঃ-

(1) প্রস্তুতকারকের নাম ও যে দেশে প্রস্তুত সেই দেশের নাম;

(2) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর;

(3) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যের প্রকৃত ওজন;

(4) বিদ্যমান বিভিন্ন খাদ্য উপকরণের ও পুষ্টি উপাদানের নাম এবং শতকরা হার;

(5) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য চিহ্নিত করার জন্য প্রদেয় লট নম্বর বা অন্যবিধ উপায়;

(6) উৎপাদিত পণ্যের উৎস্য শনাক্তকরণ কোড;

(7) কোন জাতীয় মৎস্য বা পশুখাদ্য তার উল্লেখ;

(8) উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ।

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিববায়োটিক, গ্রোথ হরমোন কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ

(1) মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না।

(2) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা () এর বিধান লংঘন করলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে।

কারখানা বা সংশ্লিষ্ট স্থানে প্রবেশের ক্ষমতা

মহাপরিচালক বা তাঁর নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আইন ও বিধি সাপেক্ষে, যুক্তিসঙ্গত সময়ে কোনো মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য কারখানা ও উহার প্রাঙ্গণ, প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াকরণের উদ্দেশ্যে উক্ত কারখানায় আনীত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য যে কোনো উপাদান ও উপাদানসমূহ মজুদ করবার স্থান, পরিবহণকারী যে কোনো যান, বিক্রয় কেন্দ্র বা এতদসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো স্থান বা যানবাহন এবং মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে কোনো দলিল পরিদর্শন করতে পারবেন।

ক্ষতিকর ও ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য বাজেয়াপ্তকরণ বিনষ্টকরণ ইত্যাদি

(1) কোনো মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষতিকর ও ভেজাল প্রমাণিত হলে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য এবং উহাদের উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রপাতি সমূদয় বা কোনো অংশ বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।

(2) বাজেয়াপ্ত অস্বাস্থ্যকর বা পঁচা বা দূষিত বা ভেজাল মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনষ্ট করবার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

(3) উপ-ধারা () এ বাজেয়াপ্তকৃত মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তাঁহার মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না এরূপ স্বাস্থ্যসম্মত পন্থায় বিনষ্ট করবেন এবং উক্তরূপ বিনষ্টকরণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র কারখানা কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

কোন কোম্পানী কর্তৃক এ আইনের অধীন কোন অপরাধ সংগঠিত হলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কোম্পানীর এরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘঠন করেছেন বলে গণ্য হবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ সংঘটন তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার

(1) মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এ আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করবে না।

(2) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেনো, এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হবে।

(3) এ আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকলে, এ আইনের অধীন অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII তে বর্ণিত পদ্ধতি যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হবে।

অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

এ আইনের অধীন অপরাধসমদূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable) ও জামিন যোগ্য (Bailable) হবে।

দন্ড

যদি কোনো ব্যক্তি এ আইনের অধীন কোনো অপরাধ করেন তা হলে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য অনুধর্ক্ষ এক বছরের কারাদন্ড বা অনুধর্ক্ষ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।